Desperate love By Nilima Zabin Tanmona Part-04 - Tricky Tune BD

Recent Posts

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, 27 March 2019

Desperate love By Nilima Zabin Tanmona Part-04

Desperate love  By Nilima Zabin Tanmona  Part-04



অর্নীল মিম আর তার অনাগত প্রিন্সেস এর খেয়াল রাখতে রাখতেই দিন পার করে দেয়। অফিস বাসায় বসেই করে। আর মিম অর্নীলকে দেখিয়ে দেখিয়ে আচার খায় যা দেখে অর্নীল হাসতে হাসতে গড়িয়ে পরে। আর জাবিন তো আছেই যে সারাক্ষণ বউমনি বউমনি করে। মিমের মেডিক্যাল টেস্ট বলছে মিম আর অর্নীলের মেয়ে হবে। মিমের ৭ মাসের প্রেগনেন্সির সময় একদিন অর্নীল অফিস থেকে দৌঁড়ে এসে মিমকে কোলে নিয়ে ঘুরাতে থাকে। মিম তো ভয়ে শেষ যদি পরে যায়। এরপর অর্নীল নিজের খুশিকে কন্ট্রোল করে মিমকে কোল থেকে নামিয়ে মিমের গালে হাত রেখে বলল

-মালয়েশিয়া আর ইন্ডিয়ায় আমাদের কোম্পানির অলরেডি ৩টা ব্রাঞ্চ হয়েছে। তুমি নিজে যাবে উদ্ভোধন করতে।
-কিহহহহ? Is it possible?? (আশ্চর্য হয়ে অর্নীলের দিকে তাঁকিয়ে)
-Everything is possible my queen for your king. (মিমের গাল টেনে)
-তা তো জানিই বাট রিয়েলি এর থেকে খুশির খবর আর কোনোটাই হতে পারেনা।(অর্নীলকে জড়িয়ে ধরে)
-ভুল তুমি জানপাখি। এর থেকেও খুশির খবর হচ্ছে খুব শীঘ্রই আমার প্রিন্সেস পৃথীবির আলো দেখবে। (মিমের পেটে হাত রেখে)
-হুহ যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। খাবে না?
-হ্যাঁ তবে খাইয়ে দিতে হবে আমায়।
-অবশ্যই সেইটা তো এখন আমার চাকরি হয়ে গেছে! (মুখ বাঁকা করে)
-স্যালারি দিয়ে দিব প্রবলেম নাই। শুধু আমার প্রিন্সেসকে আসতে দাও তারপরেই।
-অসভ্য। (বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো)
-এই দাঁড়াও
-কি? (পেছন ঘুরে)
-বাইরে যাবেনা। আমি শায়লাকে বলে এসেছি ও এসে দিয়ে যাবে খাবার। এই শরীর নিয়ে সিঁড়ি উঠানামা করতে না আমি নিষেধ করেছি। (ধমক দিয়ে অর্নীল)
-আরে আচ্ছা তো! যেই আমাকে সবাই হাড়ে হাড়ে ভয় পেতো আজ সেই আমাকে অন্য কাউকে ভয় পেতে হচ্ছে? (একটু আস্তে)
-এই তুমি কি বললে?
-না বললাম কিছুনা।
-আমাকেই ভয় পেতে হবে বুঝলা! (মিমের চুল নাড়াচাড়া করতে করতে)
-দিন দিন তোমার স্বভাব খারাপ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু। আমার চুল ধরে প্যাঁচাও আবার গাল ধরে টানো আবার নাকে নাক ঘষো। এসব কি হ্যাঁ?
-কি বললা? (মিমের থেকে একটু দুরে দাঁড়িয়ে)
-না কিছু বলিনি তো! যাও যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। (অর্নীলকে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে)
-বেড এ বসো দুই মিনিটে আসছি।
-হুম।

অর্নীল টাওয়েল জড়িয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলো। মিম ফোনে গেমস খেলছিল। অর্নীল মিমের পিঠে পানি ছিটা দেয়। অর্নীলকে এইভাবে দেখে মিম চোখ বন্ধ করে ফেলে।

-কি হলো তোমার? চোখ কেন বন্ধ করলে?
-তুমি কি ওয়াশরুমে চেঞ্জ করতে পারো না?
-ওহ আচ্ছা এই ব্যাপার। (অর্নীল মিমকে দাঁড় করালো। মিমকে অর্নীল ওর সাথে মিশিয়ে দাঁড় করিয়েছে। অর্নীল মিমের চোখে চুমু দিল।)
-এই কি হচ্ছে আবার? (ভ্রু উঁচু করে)
-কতদিন তোমায় আমার করে পাইনা বলো তো? (মিমের ঘাড়ে নাক ঘষতে ঘষতে)
-জানি না আমি। (নেশার স্বরে) (অর্নীল ওর হাত দিয়ে মিমের হাতের তালু চেপে ধরলো আর ঘাড়ে কিস করতে শুরু করলো)
-উহু ছাড়ো। শায়লা আসবে এখন।
-চুপ
-এইটা ঠিক হচ্ছে না কিন্তু।
-তাহলে কি ঠিক হবে?
-ছাড়ো না প্লিজ। চেঞ্জ করো আগে। আর একটা কথা কি জানো?
-কি?
-ইদানীং তুমি আরো বেশি হ্যান্ডসাম আর ড্যাশিং হয়ে যাচ্ছো।
-তুমি কি হচ্ছো? (মিমের দিকে তাঁকিয়ে)
-কি হবো?
-এখন তোমায় অনেক বেশি অনিন্দ লাগে। পরিপূর্নতার ছাপ আছে তোমার মাঝে এখন। অনেক বেশি মায়াবতী আর রুপবতী হয়ে গেছো যা আমাকে নেশার মত কাছে টানে। কিন্তু আফসোস আমার প্রিন্সেস এর জন্য সেক্রিফাইস করছি।

মিম অর্নীলকে ভেংচি মেরে অর্নীলের টি শার্ট আর ট্রাউজার বের করে দিল। অর্নীল চেঞ্জ করে খেতে বসলো। মিম অর্নীলকে খাইয়ে দিচ্ছে আর তখনি জাবিন আসলো।

-কেটি তুই না always wrong time এ আসিস!
-দা ভাই শুনো আমি ছোট না বুঝছো? হুহ
-হুম জানি।
-জাবিন সাকিবের কি অবস্থা?
-বউমনি আমার প্রেম তো ডুবলো!
-কেন কি হইছে তোর? (অর্নীল খেতে খেতে)
-তোকে দেখে ওকে বলেছিলাম রোম্যান্টিক হতে ও আমায় কি বলে জানিস?
-কি? (মিম)
-দা ভাইকে বলব আমাকে একটু রোম্যান্স শিখিয়ে দিতে কিভাবে রোম্যান্টিক হতে হয়! (মুখ ভেংচি দিয়ে বলল জাবিন)
-হাহাহাহা।
-দা ভাই হাসবিনা। খা চুপচাপ। আমি গিয়ে ফোন দেই!
-যা।

অর্নীল খাওয়া শেষে মিমকে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফি খেল। কিছুক্ষন গল্প করে মিমকে মেডিসিন খাইয়ে দিয়ে শুয়ে পরলো। অর্নীল মিমের পেটের উপর হাত রেখে বলছে

-আচ্ছা কার মতো হবে আমার প্রিন্সেস?
-আমার মতো।
-এহহ! আমার মতো হবে আমার মেয়ে।
-না আমার মতো।
-আচ্ছা যাও তোমার মত সুন্দরী আর কিউট হবে।
-হুম।
-ঘুমাও। চোখ বন্ধ করো।
-কি আমি কি বাবু হয়ে গেছি নাকি যে চোখ বন্ধ করাও বলে দিতে হবে?
-হ্যাঁ বাবু ই।
-হুহ।

এরপর অর্নীল মিমের কপালে চুমু দিয়ে মিমকে ঘুম পাড়িয়ে দিল।

৫ বছর পর......

-মামনি দাঁড়াও একটু। স্যার আর ম্যাম তো ব্যস্ত।(গাড়ির ড্রাইভার)
-তুমি কেন আসছো আমার পিছনে? যাও গাড়িতে গিয়ে বসো আর আমার স্কুল বলব্যাগটা নিয়ে যাও। (ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে)
-দাও মামনি।

-গুড নুন ছোট ম্যাম! (আকাশসহ অফিসের স্টাফেরা)
-বাপি আর মাম্মাম কোথায় চাচ্চু?
-কনফারেন্স রুমে।
-ওকে আমি দেখছি আর তোমার হাতে ফোনগুলো বাপি মাম্মাম এর না?
-হ্যাঁ আম্মু। (কোলে নিয়ে)
-আমাকে নামাও।
-কেন আম্মু?
-দেখি কি করা যায়।

এই হচ্ছে মিম আর অর্নীলের চোখের মণি তারিন চৌধুরী। অত্যন্ত কিউট আর পাকা বুড়ি। তারিনের দিম্মা আর জাবিন তারিনকে পাকা বুড়ি বলেই ডাকে। অর্নীল ডাকে প্রিন্সেস বলে আর মিম ডাকে মামনি বলে।

তারিন সোজা কনফারেন্স রুমে ঢুকে গেলো। কনফারেন্স রুমের সবাই তারিনের দিকে তাঁকিয়ে আছে আর অর্নীল গিয়ে তারিনকে কোলে নিলো আর সবার সাথে তারিনের পরিচয় করিয়ে দিল। সবাই তারিনকে কোলে নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তারিন যাবেনা। অর্নীল আর মিম কনফারেন্স ব্রেক দিয়ে কেবিনে আসলো তারিনকে নিয়ে।

-প্রিন্সেস তুমি এখানে কেন?
-আজকে আমাকে স্কুল থেকে আনতে যাবে বলে প্রমিস করেছিলে তোমরা বাট যাও নি।
-স্যরি প্রিন্সেস একদমই স্যরি। কাজের জন্য যেতে পারিনি। এই যে কানে ধরলাম আর কখনো এমন ভুল করবনা।
-নো বাপি নো! আমায় নিয়ে আজ ঘুরতে যেতে হবে তবেই স্যরি এসসেপ্টেড।
-মামনি একটা ইম্পোর্টেন্ট মিটিং এ ছিলাম তো আমরা। শেষ করে নেই? (তারিনের চুল ঠিক করতে করতে)
-আমার থেকেও কি বেশি ইম্পোর্টেন্ট বাপি আর মাম্মাম?
-নো প্রিন্সেস। এখনি ঘুরতে যাব আমরা চলো।
-কনফারেন্স?(মিম)
-ক্যান্সেল।

আকাশকে বলে মিটিং ক্যান্সেল করে অর্নীল,, তারিন আর মিম ঘুরতে যায়। তারিন আসার পর এমনি হয়েছে হুটহাট ঘুরতে যাওয়া। অর্নীল তারিন আর মিমের ব্যাপারে অনেক বেশি পসেসিভ। দুইজনের কাউকে ২ মিনিটের জন্য চোখের আড়াল করেনা অর্নীল। অর্নীল মিম আর তারিনের নেশায় আসক্ত অনেক বেশি। যেই নেশা এ জীবনে কাটবার নয়।

আসলেই ভালোবাসার নেশা কাটানোর মত নেশা না। ভালোবাসার পরিধীটা ব্যাপক যা কোনো ফিতা দিয়ে পরিমাপ করা হয়না, হয় শুধু মন দিয়ে। শেষ হলো গল্প কিন্তু ভালোবাসা নয়।

কেমন লাগলো পুরো গল্পটা জানাবেন আর আরেকটা ধ্বংসাত্মক ভালোবাসার গল্প থাকছে নেক্সট এ। ধন্যবাদ সবাইকে আমায় সাপোর্ট করার জন্য।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here