Desperate love By Nilima Zabin Tanmona Part-05 - Tricky Tune BD

Recent Posts

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, 22 April 2019

Desperate love By Nilima Zabin Tanmona Part-05

Desperate love  By Nilima Zabin Tanmona  Part-05



শৈলির ওয়েডিং রিসেপশন এ মিমের আগের থেকে কোনো প্রস্তুতি ছিল না। কারণ মিম যাবেনা বলেই রেখেছে।কিন্তু শৈলির রিকুয়েস্ট এ মিম যাবে বলে দিয়েছে। রিসেপশনের দিন সকালে মিম চরম পর্যায়ে রেগে আছে। মিমের বাপি মিমকে জিজ্ঞেস করলো

-মামনি What happened?
-বাপি আমি কি পরে যাব! একটা ড্রেস অর্ডার করেছি সেইটা নাকি আসতে আসতে লেট হবে। ভাল লাগছে না কিছু!
-এত কস্টলি ড্রেস রয়েছে তোমার সেইগুলো পরে যাও।
-এইগুলো কি ওয়েডিং এ পরার মত!!
-আচ্ছা কখন বের হবে তুমি?
-১ টার পর।
-এখন বাজে ১০ টা। তুমি ওয়েট কর আমি এক ঘন্টার মধ্যে আসছি।
-কোথায় যাবা তুমি? আমায় নিয়ে যাও।
-না। ড্রাইভারকে নিয়ে যাচ্ছি। তুমি প্রিপারেশন নাও। অর্নামেন্টস রেডি কর। আমি আসছি। বাই মামনি।
-সাবধানে যেয়ো।

মিম চুপচাপ বসে আছে। আর অসহায়ের মত ড্রেসগুলো দেখছে। এর মাঝেই অর্নীল ফোন করল মিমকে।

-Good morning.
-morning.
-কি করছেন? আর বের হবেন কখন?
-১ টায় বের হব।
-কন্ঠ এমন লাগছে কেন? রেগে আছেন নাকি?
-হ্যাঁ।
-কারনটা কি বলা যায়?
-এমনি। এসে বলব নে। এখন রাখি।

বলেই ফোনটা কেটে দিল। ১ ঘন্টা পরে মিমের বাপি মিমের রুমে আসে। মিম সেই একই জায়গাতে বসে আছে।

-মামনি
-কখন আসলা ? আর কোথায় গিয়েছিলে?
-দেখো তো পছন্দ হয় কি না? (হাতে একটা প্যাকেট দিয়ে)
-কি আছে?
-খুলে দেখো।

মিম খুলে দেখে হোয়াইট আর নীলের কম্বিনেশনে একটা গাউন। মিম দেখে অভিবুত হয়ে যায়।

-বাপি তুমি এনেছো?
-ইয়েস মাই প্রিন্সেস।
-অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে।
-জানি তো!

মিম রেডি হতে শুরু করে। ১ টার কিছুক্ষন পর মিম বেরিয়ে যায়। অর্নীল গাড়ি পার্ক করতে করতে মিমের গাড়ি এসে থামে। মিম গাড়ি থেকে নেমে যায়। অর্নীল গাড়ি থেকে নামতে নামতে মিমের দিকে সানগ্লাস খুলে তাঁকালো। চোখ তো সরাতেই পারছেনা। অর্নীল ভাবছে এই এক মেয়ের প্রতি আর কত ক্রাশ খাব! অর্নীলের ভাবনার ছেদ ঘটালো মিম।

-কি ব্যাপার এইভাবে কি দেখছেন?
-প্রিটি লাগছে। একদম প্রিন্সেস।
-ধন্যবাদ। আপনাকেও অনেক হ্যান্ডসাম লাগছে।তো যাওয়া যাক।
-শিউর।

অর্নীল আর মিম এক সাথেই ভেতরে যায়। অর্নীল আর মিমকে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। মিমকে সবাই সালাম দেয় কারণ মিমের অফিস স্টাফ সবাই। অর্নীলকেও চৌধুরী স্যার বলে সালাম দেয়। শৈলি ওদের দেখে স্টেজ থেকে উঠে আসে।

-ম্যাম এইটা কি আপনি? (মিমের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে)
-কেন? (ভ্রু কুঁচকে)
-এত্ত সুন্দর লাগছে যে কি বলব!
-তোমায় কিছু বলতে হবে না। যাও স্টেজ এ গিয়ে বসো।
-চৌধুরী স্যার আপনার প্রতি তো ক্রাশ খেলাম। আমার বরকে কিন্তু বলবেন না। (শৈলি অর্নীলকে উদ্দেশ্য করে)
-আপনার বর যেন মিমকে দেখে ক্রাশ না খায়। আপনি আমাকে দেখে খেলে সমস্যা নাই।
-অলরেডি ম্যাম এর দিকে সবাই তাঁকিয়ে আছে।
-যাও তুমি। (মিম)

রিসেপশন শেষ করে মিম বিকেলে বাসায় চলে আসলো। অর্নীল বাসায় এসেই তার আম্মুর ঘরে গেল।

-আম্মু আসব?
-আরে পারমিশন নেওয়ার কি আছে আয়।
-কি করছো?
-এইত বই পড়ছি।
-আম্মু একটা কথা বলার ছিল।
-বল। (বই বন্ধ করে)
-তুমি তো আমাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছো! আমি বিয়ে করতে চাই।
-কি ব্যাপার আজ সূর্য কোনদিকে উঠলো। অর্নীল বলছে এ কথা!
-হ্যাঁ আম্মু। আর মেয়েও আমার অনেক বেশি পছন্দের। আশা করি তুমিও পছন্দ করবে।
-কে সে?
-মিম রায়হান।
-কিরে তোর জ্বর আসলো নাকি? কয়দিন আগে তো আমিই বলছিলাম তোকে মিমের সাথে তোর বিয়ের কথা! তুই তো না করলি।
-আম্মু আমি এই ৭ টা মাস ওর সাথে থেকে বুঝেছি I want her,,I need her. ভালবেসে ফেলেছি অনেক বেশি আমি ওকে।
-মিম কি রাজি হবে?
-কেন হবে না? আমি কি দেখতে খারাপ? নাকি আমার টাকা পয়সা কম আছে? নাকি আমি খারাপ ছেলে?
-এর কোনটাই তুমি নও আব্বু। আমি কালকেই মিমের বাপির সাথে কথা বলতে যাব।
-ধন্যবাদ মা। মিমকে আমার চাই। ও না চাইলেও ওকে আমার চাই।

এই কথা বলেই অর্নীল চলে গেল। অর্নীলের মা টেনশনে পরে গেলেন ছেলের এমন আচরণে । অর্নীল ঘরে এসে মিমের ছবি দেখছে।

পরেরদিন সকালে অর্নীল অফিসে চলে যাওয়ার সময় তার আম্মুকে বলল

-প্লিজ আম্মু মিমকে এনে দিও আমাকে। ওর বাপিকে রাজি করাইয়ো তাহলেই হবে। ও ওর বাপির সব কথা শুনে। (আম্মুকে জড়িয়ে ধরে)
-পাগল ছেলে এত #desperate কেন হয়ে গেলি হঠাৎ?
-জানি না আম্মু। কিন্তু আমার ওকে লাগবেই। আমি গেলাম।
-সাবধানে যেয়ো।

অর্নীলের আম্মু ভাবছে ছেলে তো তার আসল রুপ দেখাতে শুরু করেছে। এই রুপে অর্নীল যে একদম হিংস্র হয়ে যায় তা মিসেস চৌধুরী খুব ভালই জানে। ও একবার বলেছে যেহেতু তাহলে ও মিমকে যে কোনো মুল্যে নিয়ে আসবে। এখন সব কিছু মিমের হাতে। মিসেস চৌধুরী বেরিয়ে পরলেন মিমদের বাসার উদ্দেশ্যে। রাস্তায় যেতে যেতে তিনি ভাবছেন কি হবে?

মিমদের বাসায় এসে মিসেস চৌধুরী গাড়ি থেকে নামে। মিমের বাসায় ড্রইং রুমে বসে সিমিকে বললেন মিমের বাপিকে ডেকে দিতে।

মিমের বাপি আসার পর অর্নীলের আম্মুকে সালাম দিলেন।

-ওয়ালাইকুম সালাম। আমি অর্নীল চৌধুরীর আম্মু।
-হ্যাঁ চিনি। বিজনেসম্যান অর্নীল চৌধুরীর না?
-হুম।
-তা কি মনে করে? সিমি স্ন্যাক দিয়ে যাও।
-আসলে আমি আপনার কাছে একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।
-কি প্রস্তাব?
-মিমকে আমি অর্নীলের বউ করে নিয়ে যেতে চাই।
-ভেবে বলছেন তো?(ভ্রু কুচকে)
-অর্নীল মিমকে অনেক ভালবাসে। তাছাড়া সমানে সমানে বলেই সাহস হয়েছে বলতে। আমার ছেলে একা। কোনো ভাই বোন নেই ওর। ও একাই সব দেখছে। এত বড় বিজনেস একা সামলানো সহজ কথা নয়।
-মিম বিয়ে তে রাজি হবেনা। ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি কিছু বলতে পারব না। একমাত্র আদরের মামনি আমার।।
-আপনি মিমকে রাজি করান। আপনি বললে ও শুনবে। আমার ছেলেও কিন্তু কম সুন্দর না
-হ্যাঁ জানি। আমি মামনির সাথে কথা বলে আপনাকে জানাব।
-প্লিজ এন্সারটা যেন পজিটিভ হয়। আমার ছেলে পাগল হয়ে যাবে নয়ত।
-আমি জানাব।

অর্নীলের আম্মু চলে যাওয়ার পর মিমের বাপি মিমকে ফোন করে বাসায় আসতে বলে। মিম বাসায় এসেই বাপির রুমে যায়।

-বাপি হঠাৎ জরুরী আসতে বললা?
-মামনি বসো।
-হুম বল।
-আর কতদিন এইভাবে একা থাকবা? এইবার তো বিয়ে করতে হবে?
-বাপি আমি বিয়ে করব না বলেছি না। আর আজ হঠাৎ এসব বলছো?
-এতদিন অনেক প্রোপজাল এসেছে আমি রিজেক্ট করে দিয়েছি। আর আজকের প্রপোজালটা আমাকে ভাবাচ্ছে। ইনফ্যাক্ট আমি চাই
-কে দিয়েছে প্রপোজাল?
-অর্নীলের আম্মু।
-অর্নীলের আম্মু? মানে অর্নীল চৌধুরীর আম্মু? (অবাক হয়ে)
-হ্যাঁ
-কার জন্য?
-অর্নীলের জন্য।
-Whattttt?? (বসা থেকে দাঁড়িয়ে)
-রেগে যাস না! অর্নীল তোকে অনেক ভালবাসে।
-ইম্পসিবল বাপি। আমি বিয়ে করছি না।
-কেন? অর্নীল কি দেখতে খারাপ? নাকি গরীব?
-কথা সেইটা নয় বাপি। আমি ওনাকে বিয়ে করব না। Infact বিয়েই করব না।
-কারণটা কি?
-কারণ একটাই আমি বিয়ে করব না।
-মামনি পাগলামি করিস না! অর্নীল ছেলেটা ভালই।
-বাপি এই নিয়ে আর একটা কথা না। তাহলে আমি কি করব আমি নিজেও জানি না।
-আচ্ছা তোর যা ভাল মনে হয়। (গম্ভীর স্বরে)

মিম নিজের রুমে এসে রাগে ফুসতে থাকে। অর্নীলকে ফোন করবে ভেবেও করছেনা। সাহস কি করে হয় আমার বাসায় প্রস্তাব দেওয়ার!!

মিমের বাপি অর্নীলের আম্মুকে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয় মিম বিয়ে করবেনা। অর্নীলের আম্মুর বুক কেঁপে উঠে। অর্নীল শুনলে তো কিয়ামত হয়ে যাবে। কিভাবে বলবে এই কথা অর্নীলকে? সারা বিকাল এত চিন্তা করতে থাকেন মিসেস চৌধুরী। সন্ধ্যার পর অর্নীল বাসায় আসলো। অর্নীলকে দেখেই মিসেস চৌধুরী চুপসে গেলেন।

-আম্মু গিয়েছিলে?(শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে)
-হুম।(ভয়ে ভয়ে)
-রাজি মিম??
-আমি তোকে বাইরের মেয়ে এনে দেই? মানে দেশের বাইরের? (ভয়ে ভয়ে)
-Whatttt? আমি কি তোমার কাছে বাইরের মেয়ে চেয়েছি? (বোতাম খোলা অফ করে)
-আসলে মিম বিয়ে করবে না!
-ও বিয়ে করবে না?
-না। (ভয় পেয়ে)
-ওকে দেখছি আমি। (এই কথা বলে অর্নীল বেরিয়ে যায়)
-আব্বু কই যাচ্ছিস? দাঁড়া তো একবার

অর্নীল কোনো কথা না শুনেই গাড়ি নিয়ে মিমের বাসায় চলে যায় রাত ৯ টায়। অর্নীলকে দেখে সিমি ভয়ে ভয়ে বলল

-স্যার আপনি?
-Where is your mam?
-নিজের ঘরে।
-বাপি কোথায়?
-নিজের ঘরে।

অর্নীল বাপির রুমে গিয়ে যা বলার ভদ্র ভাবে বলল। মিমের বাপিও রাজি হয় অর্নীলের কথায়। কি বলল সেইটা পরের পর্বে জানাব।

অর্নীল মিমের বাপির সাথে কথা বলে সোজা মিমের ঘরে যায়। অর্নীলকে দেখে মিম হতভম্ব হয়ে যায়। চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। মিমের কিছু বলার আগেই অর্নীল মিমকে কোলে তুলে মিমের জন্য একটা ওড়না নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

চলবে...............

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here